শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

ইরান যুদ্ধবিরতির মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ৩:২৪ pm

চারদিনের কূটনৈতিক সফরে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

এমন এক সময়ে তার এ সফর হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা বেড়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত হতে যাওয়া এ সফরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ সৌদি আরব ও কাতারে ‘দ্বিপাক্ষিক’ নানান বিষয় নিয়ে বৈঠক করবেন। আর আনতালিয়া কূটনীতিক ফোরামের সাইডলাইনে তার সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান ও অন্যান্য দেশের নেতাদের কথা হবে।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরও আলোচনার পথ সৃষ্টিতে এবং এই বিষয়ে অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে আলোচনায় আগ্রহের বিষয়টি শেহবাজ তাকে জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সাড়ে পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধের পর যে দু্ই সপ্তাহের বিরতিতে সম্মত হয়েছে তাতে মধ্যস্থতা করেছে পাকিস্তান। এ যুদ্ধবিরতি আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা, জানিয়েছে আল জাজিরা।

বিবৃতিতে জারদারি শান্তি প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখার চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরাশক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন।

সোমবার একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অসমর্থিত সূত্রের খবরে পর্দার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে দাবি করা হয়।

পরে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তব্যে এই ধারণা আরও পোক্ত হয়।

এর আগে ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ও ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাকের কালিবাফ নেতৃত্বাধীন দুই দেশের প্রতিনিধিদের ২১ ঘণ্টার মুখোমুখি বৈঠক কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়।

মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই পাকিস্তানে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা ফের শুরু হতে পারে।

ট্রাম্প শুরুতে এ দফার বৈঠক ইউরোপে হতে পারে বলে জানালেও পরে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান আসিম মুনির ‘অসাধারণ কাজ করছেন’ জানিয়ে বলেন, আলোচকদের ইসলামাবাদে ফেরার ‘সম্ভাবনাই বেশি’।

মধ্যস্থতাকারী এক দেশের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক বার্তা সংস্থা মঙ্গলবার জানায়, ওয়াশিংটন ও তেহরান আরও আলোচনা করতে রাজি হয়েছে। তবে কোথায়, কখন এ বৈঠক হবে এবং সে বৈঠকে কারা কারা থাকবে তা এখনও ঠিক হয়নি।

বৈঠকের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ ও জেনিভার কথা ভাবা হচ্ছে, বলেছেন ওই কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও ‍গুতেরেস বলেন, যুদ্ধবিরতির আলোচনা ফের শুরু হওয়ার ‘ব্যাপক সম্ভাবনা’ রয়েছে।

নতুন করে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হলে তা শেহবাজ শরিফ ও অন্য মধ্যস্থতাকারীদের দক্ষতার পরীক্ষা নেবে, বলছে আল জাজিরা।

চলমান দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি বন্দর ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান বিশ্বের তেল-গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। এর পাল্টায় দিনকয়েক আগে ট্রাম্প এই নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন।

হরমুজ বন্ধ থাকায় বিশ্বের শেয়ার বাজারে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে ৫০ শতাংশের মতো।

“এ ধরনের জটিল সমস্যা, দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান আলোচনার এক অধিবেশনেই হয়ে যাবে— এমনটা ভাবা অবাস্তব বলেই আমি মনে করি। তাই আমাদের দরকার আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং সে সময় যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা,” বলেছেন গুতেরেস।

মঙ্গলবার ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ও তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্য ফোনালাপে তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনা নিয়ে কথা হয়েছে।