অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতে বান্ধবীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রেমিকের বিচার শুরু
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ ১:২২ pm
অস্ট্রিয়ার সর্বোচ্চ পর্বত গ্রসগ্লকনার-এ ৩৩ বছর বয়সী এক নারী ঠাণ্ডায় জমে মারা যাওয়ার ঘটনার এক বছরের বেশি সময় পর তার প্রেমিকের বিচার শুরু হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
কার্স্টিন জি নামের ওই নারী ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি ভোরে পাহাড়ে ওঠার সময় তীব্র ঠাণ্ডায় হাইপোথার্মিয়ায় মারা যান। অভিযোগ অনুযায়ী, ঝোড়ো আবহাওয়ার মধ্যে চূড়ার কাছাকাছি তাকে ক্লান্ত অবস্থায় রেখে সাহায্য আনতে যান তার প্রেমিক।
রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বেশি অভিজ্ঞ পর্বতারোহী ছিলেন এবং তিনিই সফরটির পরিকল্পনা করেছিলেন। তাই তার দায়িত্ব ছিল পরিস্থিতি খারাপ হলে ফিরে আসা বা দ্রুত সাহায্য চাওয়া। কিন্তু তিনি তা করেননি। অস্ট্রিয়ার গণমাধ্যমে তাকে থমাস পি নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে পি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার আইনজীবী বলেছেন, এটি একটি দুঃখজনক দুর্ঘটনা।গ্রসগ্লকনার পর্বতের উচ্চতা ৩ হাজার ৭৯৮ মিটার। অভিযোগ রয়েছে, তারা দেরিতে যাত্রা শুরু করেন এবং যথেষ্ট জরুরি সরঞ্জাম নেননি।
এমনকি ওই নারী উপযুক্ত জুতা পরেননি বলেও দাবি করা হয়েছে। পাহাড়ে ওঠার সময় প্রবল বাতাস ও তীব্র ঠাণ্ডা ছিল। তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর অনুভূত তাপমাত্রা ছিল প্রায় মাইনাস ২০ ডিগ্রি। তবুও তারা ফিরে আসেননি।রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, রাতের দিকে তারা আটকে পড়েন।
অভিযুক্ত সময়মতো পুলিশকে জানাননি এবং একটি হেলিকপ্টার উড়ে যাওয়ার সময়ও সংকেত দেননি। পরে ওই নারী খুব দুর্বল হয়ে পড়েন। রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে অভিযুক্ত পর্বত পুলিশকে ফোন করেন। এরপর রাত ২টার দিকে তিনি বান্ধবীকে রেখে সাহায্য আনতে যান।আইনজীবীর দাবি, তারা গ্রসগ্লকনারের চূড়া চিহ্নিত করা ক্রস থেকে প্রায় ৪০ মিটার নিচ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হন। বান্ধবী আর নড়াচড়া করতে না পারায় তিনি তাকে সেখানে রেখে সাহায্য আনতে চূড়ায় উঠে অন্য পাশ দিয়ে নামতে শুরু করেন। রাত ২টার দিকে তিনি তাকে একা রেখে যান। ওয়েবক্যামের ছবিতে দেখা যায়, টর্চ হাতে তিনি চূড়া থেকে নামছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, তিনি অ্যালুমিনিয়ামের উদ্ধার কম্বল বা অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাকে ঠাণ্ডা থেকে সুরক্ষা দেননি এবং রাত ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত জরুরি পরিষেবাকে জানাননি। ততক্ষণে সম্ভবত অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। প্রবল বাতাসের কারণে রাতে হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত কার্স্টিন জি বরফে একাই মারা যান।
দোষী প্রমাণিত হলে থমাস পি সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড পেতে পারেন। অস্ট্রিয়ার সংবাদপত্র ডের স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে পর্বতারোহীদের দায়িত্ব ও আইনি জবাবদিহিতার বিষয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।