গতকাল শুক্রবার রাতে প্রো লিগে ইত্তিহাদের বিপক্ষে ম্যাচেও খেলতে অস্বীকৃতি জানান ৪১ বছর বয়সী এ মহাতারকা। রোনালদোহীন ম্যাচে অবশ্য ২-০ ব্যবধানের জয় পেয়েছে আল নাসর।ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আল নাসর কর্তৃপক্ষ আশা করেছিল, গতকালের ম্যাচটা খেলবেন রোনালদো। কিন্তু পিআইএফ থেকে ক্লাব ব্যবস্থাপনা নিয়ে নীতি পরিবর্তনের কোনো নিশ্চয়তা না পাওয়ায় বয়কট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রোনালদো।
তা পিআইএফের ওপর রোনালদোর এত অসন্তোষ কেন? এ প্রসঙ্গে ইএসপিএন উল্লেখ করেছে, মূলত ট্রান্সফার উইন্ডোতে পিআইএফের ভূমিকা নিয়েই যত ক্ষোভ রোনালদোর। সৌদির শীর্ষ চার ক্লাব- আল হিলাল, আল নাসর, আল আহলি ও আল ইত্তিহাদের মালিকানার বড় অংশ পিআইএফের অধীনে।
রোনালদোর অভিযোগ, নাসর বাদে বাকি ক্লাবদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে পিআইফ। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে রোনালদোর সাবেক রেয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ করিম বেনজেমাকে ইত্তিহাদ থেকে দলে ভেড়ায় আল হিলাল। বেনজেমার এই দলবদল রোনালদোর অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।সৌদিতে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত আল নাসরের হয়ে কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেননি রোনালদো। এমন অবস্থায় হিলালে বেনজেমার যোগদান মানে ওই ক্লাবের আক্রমণভাগের শক্তি আরও বেড়ে যাওয়া। অর্থাৎ রোনালদোর শিরোপা খরা কাটানোর পথ আরও কঠিন হওয়া।
তাছাড়া রোনালদোর শিরোপা জয়ের পথে বড় বাধা ওই আল হিলালই। বর্তমানে লিগের ২০ ম্যাচ শেষে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে রোনালদোর আল নাসর। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আল হিলাল। সে কারণেই আল হিলালের দলবদলের অনুমতি দেওয়ায় পিআইএফের ওপর অসন্তোষ বেড়ে যায় রোনালদোর।
এদিকে রোনালদোর ম্যাচ বয়কট প্রসঙ্গে গত বৃহস্পতিবার সৌদি প্রো লিগ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, কোনো খেলোয়াড়ই নিজের ক্লাবের বাইরে অন্য সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন না। প্রো লিগের ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সৌদি প্রো লিগ একই নিয়মের আওতায় পরিচালিত একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে প্রতিটি ক্লাব স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। প্রতিটি ক্লাবের নিজস্ব বোর্ড, নির্বাহী ও ফুটবল নেতৃত্ব রয়েছে। একটি নির্ধারিত আর্থিক কাঠামোর মধ্য থেকে খেলোয়াড় দলে টানা, ব্যয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত ক্লাবগুলোই নিয়ে থাকে।’
বিবৃতিতে এটাও জানানো হয় যে, রোনালদো যত বড় তারকাই হন না কেন, নিজের ক্লাবের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করতে পারে না।
সৌদি প্রো লিগের ভাষ্য, সাম্প্রতিক ট্রান্সফার কার্যক্রমই প্রমাণ করে যে ক্লাবগুলো স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। একেকটি ক্লাব একেকভাবে নিজেদের শক্তিশালী করেছে, সব সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে অনুমোদিত আর্থিক কাঠামোর মধ্যে থেকে।এদিকে জানা গেছে, ট্রান্সফারের অর্থ সরাসরি পিআইএফ থেকে আসে না। সৌদি প্রো লিগ কেন্দ্রীয়ভাবে একটি খেলোয়াড় অধিগ্রহণ তহবিল পরিচালনা করে, যেখান থেকে ক্লাবগুলোর আকার অনুযায়ী প্রতিবছর অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত বছর গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোর আগে আল নাসর, আল হিলাল, আল ইত্তিহাদ ও আল আহলি— এই চার ক্লাব প্রায় সমপরিমাণ অর্থ পেয়েছিল।
