শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

পিএসজির কাছে হেরে রেফারিং নিয়ে মুখ খুললেন বায়ার্ন কোচ

মে ৭, ২০২৬ ১২:৪৩ pm

বিতর্কিত দুই হ্যান্ডবলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভিনসেন্ট কম্পানি। বেলজিয়ান এই কোচের দাবি, এই দুই সিদ্ধান্তই অনেকটা নির্ধারণ করে দিয়েছে পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে উঠার ভাগ্য।

প্রথম লেগে প্যারিসে নয় গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে হারের পর দ্বিতীয় লেগের তৃতীয় মিনিটে গোল করে পিএসজিকে ৬-৪ গোলের লিড এনে দেন উসমান দেম্বেলে। এর পরও ম্যাচে ফিরতে নিজেদের মাঠে দীর্ঘ সময় লড়াই করেছে বায়ার্ন।

শেষে হ্যারি কেইন একটি গোল পরিশোধ করলেও তা ম্যাচে ফেরার জন্য যথেষ্ট ছিল না।ম্যাচ শেষে রেফারির ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন কম্পানি। বিশেষ করে দুই লেগে হওয়া দুটি হ্যান্ডবলের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

প্রথম লেগে বায়ার্ন ৩-২ গোলে পিছিয়ে পড়ে বিরতির ঠিক আগে।

তখন পেনাল্টি থেকে গোল করেন দেম্বেলে। বক্সের ভেতরে আলফানসো ডেভিসের হাতে বল লাগাকে হ্যান্ডবল ধরে পেনাল্টি দেন রেফারি।অথচ দ্বিতীয় লেগে একই ধরনের ঘটনায় পেনাল্টি পায়নি বায়ার্ন। ভিতিনিয়া বল ক্লিয়ারেন্স করতে গিয়ে জোয়াও নেভেসের হাতে বল লাগে।

কিন্তু রেফারি জোয়াও পিনহেইরো বায়ার্নের পেনাল্টি আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, বলটি নিজের সতীর্থের শরীর থেকে এসেছে।টিএনটি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কম্পানি বলেন, ‘আমরা সবকিছু দিয়েছি। ম্যাচটা ছোট ছোট মুহূর্তে নির্ধারিত হয়েছে। গত দুই বছরে পিএসজির বিপক্ষে পাঁচবার খেলেছি—তারা দুইবার জিতেছে, আমরাও দুইবার।

এই ম্যাচটা ছিল ড্রয়ের মতোই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।’এরপরই অফিশিয়ালদের সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। কম্পানি বলেন, ‘এটা সব কিছুর অজুহাত নয়, কিন্তু এসব সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই লেগ মিলিয়ে অনেক কিছুই আমাদের বিপক্ষে গেছে।’

হ্যান্ডবলের নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে বায়ার্ন কোচ বলেন, ‘আমি নিয়ম বুঝি। প্রথম ঘটনায় বল আগে শরীরে লাগে, খুব কাছ থেকে আসে, এরপর হাতে লাগে। তারা বলেছে বলের গতিপথের কারণে পেনাল্টি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় ঘটনায় হাত অনেক ওপরে ছিল, তবু বলা হলো সতীর্থের শরীর থেকে বল আসায় পেনাল্টি নয়। সাধারণ বিবেচনায় দেখলে দুই সিদ্ধান্তই হাস্যকর। ম্যাচের পুরো গল্প এটা নয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তো এক গোলের ব্যবধান।’

এ ছাড়া দ্বিতীয় লেগে আরেকটি ঘটনায়ও ক্ষুব্ধ ছিলেন কম্পানি। প্রথমার্ধে নুনো মেন্ডেসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড না দেখানো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কোম্পানির দাবি, ডান প্রান্তে পাল্টা আক্রমণ থামাতে হাত ব্যবহার করেছিলেন মেন্ডেস।

কোম্পানির বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে রেফারি প্রথমে কার্ড দিতে যাচ্ছিলেন। পরে বুঝতে পারেন এর আগে তিনি তাকে একটি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন, তাই দ্বিতীয় হলুদ দিয়ে মাঠ থেকে বের করতে চাননি।’

দুই লেগ মিলিয়ে পিএসজি-বায়ার্ন দ্বৈরথে মোট ১১ গোল হয়েছে। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সেমিফাইনালে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এর আগে ২০১৮ সালে লিভারপুল-রোমা এবং গত মৌসুমে বার্সেলোনা-ইন্টার মিলান ম্যাচে এর চেয়ে বেশি গোল হয়েছিল।

দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ ব্যবধানে জিতে এবার ফাইনালে উঠেছে পিএসজি। বুদাপেস্টে হতে যাওয়া শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ আর্সেনাল।