শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

মহানবীকে (সা.) অবমাননায় মৃত্যুদণ্ডের আইন চাইলেন এমপি হানজালা

এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১২:২৫ pm

মহানবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) কটুক্তির জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন মাদারীপুর-১ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা। একই সঙ্গে যারা হজরত মুহাম্মদকে (সা.) শেষ নবী হিসেবে মানে না, তাদের ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করতে সংসদ থেকে আইন করার দাবি তুলেছেন তিনি।বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে হানজালা এসব কথা বলেন।বক্তৃতার শুরুতে সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা তার নির্বাচনী এলাকা শিবচরের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তারা ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সেই আওয়াজগুলোকে জাতির সামনে তুলে ধরে তাকে সংসদে পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে দুইজন নির্বাচিত হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাতা আজিজুল হক এবং বর্তমান প্রধান মামুনুল হকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান হানজালা। পরে নিজের নির্বাচনী এলাকার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে হাজী শরীয়তুল্লাহর প্রসঙ্গ তোলেন।

সংসদ সদস্য হানজালা বলেন, ‘আমরা একটি বিশাল কমিউনিটি থেকে বিলং করি। আমরা দেশ ও জাতির কণ্ঠ হয়ে কথা বলার জন্য জাতীয় সংসদে এসে দাঁড়িয়েছি।’

বিরোধী দলের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল মানেই শুধু বিরোধিতা করা নয়। সরকার ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করা হবে, আর ভুল হলে তার প্রতিবাদও করা হবে।’

সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘সরকারি দল যদি ভালো কাজ করবে, বিরোধী দলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের প্রশংসা করতে আমরা বিন্দু পরিমাণ দ্বিধা করব না।’

এ সময় সংসদ কক্ষে আরবিতে কালেমা ও ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখা থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এসব দেখলে আমাদের ভালো লাগে।’

বক্তৃতার এক পর্যায়ে ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক রাজনৈতিক বক্তব্যে যান হানজালা। এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বাংলার ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ ওলামায়ে কেরাম আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কারণ তাদের কণ্ঠ, তাদের সে আওয়াজগুলো আমরা যেন জাতীয় সংসদ থেকে দিতে পারি।’এরপর মহানবী মুহাম্মদের (সা.) প্রসঙ্গ টেনে সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘‘তিনি আমার শেষ নবী, যেটা কোরআন ঘোষণা দিয়েছে। নবী বলেছে ‘আমি শেষ নবী, আমার পরে কোন নবী আসবে না’।’’

পরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি পার্ট রয়েছে, যে অংশ মানুষ তারা নবীকে অস্বীকার করে, তারা মুসলমান দাবি করে।’

এই অবস্থার আইনি নিষ্পত্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হানজালা বলেন, ‘আপনি বাংলাদেশের একটি ইতিহাস রচনা করে যাবেন। আপনার মাধ্যমে যদি এটা স্বীকৃতি পায়, যারা নবীকে অস্বীকার করে তারা কোনোদিন মুসলমান থাকতে পারে না, এটা আইনের মাধ্যমে এ দেশের পার্লামেন্ট থেকে ঘোষণা হবে, সেটা আমরা চাই।’

নবীকে অবমাননার অভিযোগে শাস্তির প্রসঙ্গে সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, ‘আমরা আমাদের নবীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। এ দেশের মানুষ নামাজ না পড়লেও যদি কেউ নবীকে কটুক্তি করে, তার কলিজা ছিঁড়ে যায়, সে রাজপথে নেমে যায়।’

এমপি হানজালার ভাষ্য, ‘আমি বলব যারা নবীকে কটুক্তি করে, নবীর নামে গালিগালাজ করে, এদের মৃত্যুদণ্ড, এই আইনটাও যেন বাংলাদেশের এই সংসদ থেকে পাস করা হয়।’

বক্তৃতায় শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি করেন হানজালা। তিনি বলেন, ‘যে সন্তানটা ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছিল, ইনসাফের আওয়াজ দিয়েছিল, আমাদের মতই যুবক… তার স্বপ্ন থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিচার যদি না হয়, তাহলে আমাদের মতো আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তাও রাস্তায় কেউ দিতে পারবে না।’

খেলাফত মজলিসের এই সংসদ সদস্য নিজের এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘মাদকবিরোধী অবস্থান নিতে গিয়ে আমি প্রশাসনের কাছ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা পাচ্ছি না। যখন প্রশাসনের কাছে ইয়াবাসহ গাঁজাসহ দেওয়া হয়, তখন তারা কোর্টে চালান করে দেয়। তিনদিন থেকে চারদিনের মাথায় জামিন নিয়ে এলাকায় এসে আবার মাদক ব্যবসা করছে।’