পিরোজপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা
জানুয়ারি ২২, ২০২৬ ৫:৪১ pm
বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিত হওয়ার পর এবার পিরোজপুর-২ (কাউখালী-ভাণ্ডারিয়া-নেছারাবাদ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহমুদ হোসেনের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা তাঁর প্রচারণায় বাধা দিতে এ হামলা চালিয়েছেন।
ঘটনার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মাহমুদ হোসেনের নির্বাচনী ক্যাম্পে এ হামলা হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা ক্যাম্প অফিসে ঢুকে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন এবং কয়েকজন কর্মীর ওপর হামলা চালান। এ সময় ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়।মাহমুদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ছারছীনা শরিফের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করেন। পরে স্বরূপকাঠী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী ক্যাম্পে একটি আলোচনাসভায় অংশ নেন।
সভা চলাকালে বিএনপির প্রার্থী আহমদ সোহেল মঞ্জুর সুমনের সমর্থক নাসির তালুকদার ও তাঁর ভাইসহ কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।তিনি আরো দাবি করেন, তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত দুই পুলিশ সদস্যের সামনেই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর কয়েকজন কর্মী আহত হন এবং ক্যাম্পের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। ভাংচুরের পর তার স্থিরচিত্র স্বরূপকাঠীর সাংবাদিকরা ধারণ করেছেন।
সেই ছবি কালের কণ্ঠের কাছে রক্ষিত আছে।হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে যৌথ টহল ও মহড়া দেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশের প্রহরায় মাহমুদ হোসেনকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা গেছে।
মাহমুদ হোসেন বলেন, ভোটের আগেই এ ধরনের হামলা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা।
এসব ঘটনা তাঁকে অতীতের দমনমূলক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরো কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন।তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বরূপকাঠী পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী কামাল হোসেন। তিনি সাংবাদিকদেরকে বলেন, মাহমুদ হোসেন দল থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তি। তিনি দলের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে সভা করছিলেন বলে শুনেছেন। এ নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি।
অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন তালুকদার স্বরূপকাঠীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘হামলা বা ভাঙচুরের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাদের অফিসে কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটাও আমার জানা নেই।’
নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, সাবেক কাউন্সিলর মো. সাইফুল ইসলাম উজ্জ্বলের কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়েছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের কিছু লোক সেখানে গিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দুই পক্ষ মুখোমুখি হলেও কোনো সংঘর্ষ হয়নি। কার্যালয়ের কিছু চেয়ার এলোমেলো অবস্থায় দেখা গেছে, তবে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
মো. মাহমুদ হোসেন ১৯৮৮-৮৯ দিকে ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে ভিপি নির্বাচিত হন। এরপর দীর্ঘদিন তিনি রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ২০২৫ সালে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ লাভ করেন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গের অভিযোগে বুধবার তাঁর প্রাথমিক সদস্য পদ স্থগিত করা হয়।