নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বুধবার জাপানের টোকিওর বেল স্যাল জিমবোচোতে ‘সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ‘নেক্সট জেনারেশন এশিয়া পিস বিল্ডিং ফোরাম’-এ তরুণদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। এতে তিনি বলেন, প্রযুক্তির শক্তিতে সক্ষম এই প্রজন্ম ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্ম।
ফোরামে উপস্থিত জাপানি তরুণরা এশিয়াজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে।অধ্যাপক ইউনূস মূল বক্তব্যে বলেন, প্রযুক্তির শক্তিতে সক্ষম এই প্রজন্ম ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজন্ম। তিনি তাদের কল্পনাশক্তি ব্যবহার করে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানান, বড়ভাবে চিন্তা করতে এবং উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করেন।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা—বয়স্ক প্রজন্ম—ভুল ধরনের একটি সভ্যতা তৈরি করেছি, যা পরিবেশ ও পৃথিবীকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। তাই তরুণদের তাদের শক্তি ও কল্পনাশক্তি ব্যবহার করে দ্রুত নতুনভাবে বিশ্বকে পুনর্গঠন করতে হবে, যাতে এই ধ্বংসের পথ থেকে ফিরে আসা যায়।’
অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, ‘তুমি যদি কল্পনা করো, তা বাস্তবে ঘটবে! তোমাকে কল্পনা করতেই হবে! কল্পনা সবসময় বাস্তবতার আগে আসে।
তিনি তার নিজস্ব ‘তিন শূন্য’ (Three Zeroes) বিশ্বের ধারণা তুলে ধরেন—শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ, শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ এবং শূন্য বেকারত্ব।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘‘সবার মধ্যে উদ্যোক্তা সৃষ্টির মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। এই প্রক্রিয়া শুরু হবে পাঁচজনের সমন্বয়ে ‘থ্রি জিরো ক্লাব’ গঠনের মাধ্যমে, যেখানে প্রত্যেকে প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা নিজেদের জীবনে কার্বন নিঃসরণ, সম্পদ কেন্দ্রীকরণ এবং বেকারত্ব বৃদ্ধিতে কোনো অবদান রাখবে না।’’
ইন্দোনেশিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাসান উইরাজুদাও তরুণদের শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন।
অধ্যাপক ইউনুস ও ড. উইরাজুদা উভয়েই আলোচিত বিষয়গুলোর ওপর প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণ করেন।
