এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১১:১৩ am
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এই জবাব উপস্থাপন করা হয়।
তিনি বলেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন কর্তৃক দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখলদারের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে।
রেশনিং ব্যবস্থায় ফিরলে জ্বালানি সংকট কমবে : ড. গোলাম মোয়াজ্জেম
তিনি জানান, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের অবিলম্বে উচ্ছেদযোগ্য এরূপ তালিকা পাওয়া সাপেক্ষে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহ তার প্রশ্নে বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা হলেও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তালিকাভুক্ত ৫ হাজার অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে একটিও বড় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।
অঘোষিত ফাইনালে টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে দুই পরিবর্তন
পরবর্তীতে মহামান্য হাইকোর্টের (রিট পিটিশন নং-১৩৯৮৯/২০১৬) তুরাগ নদসহ দেশের সব নদ-নদীকে জীবন্ত সত্তা এবং কমিশনকে সব নদ-নদীর আইনগত অভিভাবক ঘোষণা করা হয়েছে।
মন্ত্রী সংসদে জানান, সারাদেশে নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা মোতাবেক স্থানীয় জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতায় বিভিন্ন সময় অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এরই মধ্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন কর্তৃক দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখলদারের তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে।
১. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩ অনুযায়ী জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা না থাকায় নদ-নদী ও খালের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।
২. মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং ৩৫০৩/২০০৯ তে প্রদত্ত রায় অনুযায়ী সিএস ও আরএস রেকর্ড এর ভিত্তিতে নদীর সীমানা নির্ধারণের নির্দেশনা রয়েছে।
৪. স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় লোকবল ও লজিস্টিক সার্পোট না থাকা এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ না থাকায় নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না।
সেই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপগুলো
১. জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩ সংশোধনের প্রক্রিয়া চলমান। প্রস্তাবিত আইনে নদ-নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, পৃথক নদী আদালত প্রতিষ্ঠা, নদী দখল সংশ্লিষ্ট অভিযোগের তদন্ত পরিচালনা, মামলা দায়ের এবং তা তদারকির ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আইনে মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের আলোকে দেশের সব নদীকে ‘আইনি ব্যক্তি’ বা ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে নদ-নদীর আইনগত অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ এনফোর্সমেন্ট ক্ষমতা প্রদান করা হবে। প্রস্তাবিত আইনের খসড়া জনমত যাচাইয়ের উদ্দেশে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
২. মাঠ প্রশাসন হতে প্রাপ্ত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অবৈধ দখলদার বিরুদ্ধে অবিলম্বে উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
৩. উচ্ছেদ হওয়া জায়গা পুনরায় দখল ঠেকাতে উচ্ছেদকৃত স্থানে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ বা সীমানা পিলার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।