এপ্রিল ৩০, ২০২৬ ১:০২ pm
তারা বলছেন, বাজেটকে তৈরি করা হয় শাস্তিমূলক।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, এমন বাজেট দিতে হবে যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশা লাঘবে সহায়ক হবে। আগামী বাজেট যেন শাস্তিমূলক না হয়ে সহায়তামূলক হয়। তিনি আয়কর, ব্যাংক ও কাস্টমসের জন্য সমন্বিত ইউনিফাইড ট্যাক্সপেয়ার প্রোফাইল চালু করাসহ ওয়ান-পেজ ডিজিটাল রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন। এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে করদাতার সংখ্যা বাড়বে, কর ফাঁকি কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশে স্বচ্ছ ও শক্তিশালী কর সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক পিএসআর ও উচ্চ জরিমানার বিধান ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বাংলাদেশ রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ইমরান হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সবাইকে ‘সিস্টেমেটিক্যাল চোর’ বানিয়ে রাখা হয়েছে। যারা ভ্যাট-ট্যাক্স দেয় এনবিআর তাদের বিরুদ্ধেই অভিযান চালায়। যারা দেয় না, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বাংলাদেশ অ্যালুমিনিয়াম ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ওবায়দুর রহমান বলেন, আমাদের ইন্ডাস্ট্র্রি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আমাদের এসব ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচান। ডাইরেক্ট ট্যাক্স বাড়ান। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অফিসার পাঠান, সেখান থেকে প্রচুর আয়কর আদায় হবে।
বারভিডা সভাপতি আবদুল হক বলেন, একসময় দেশে প্রায় ৩০ হাজার গাড়ির বাজার ছিল। যা গত বছর ১০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে। বিআরটিএর রেজিস্ট্রেশনও এখন এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। ডলারের দাম ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে মধ্যবিত্ত মানুষ আর গাড়ি কিনতে পারছে না। গাড়ির ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্ক কমালে বাজারে গতি ফিরবে।
এফবিসিসিআইয়ের প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, দেশের সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের স্বার্থে স্থানীয় পর্যায়ে সব পণ্যের সরবরাহের ক্ষেত্রে ভ্যাট হার ২ শতাংশ করা, দেশে উৎপাদন হয় না এমন শিল্পের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ, শিল্পের কাঁচামাল-উপকরণের আমদানিতে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং দেশে উৎপাদন হয় এমন ধরনের যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও শিল্পের কাঁচামাল-উপকরণের আমদানিতে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। এতে দেশি শিল্প সুরক্ষা পাবে বলে মনে করছে সংগঠনটি। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ব্যবসায়ীরা এগিয়ে গেলে দেশের অর্থনীতিও এগিয়ে যাবে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কর প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। আগামী বাজেট প্রণয়নে ট্যাক্স ও ডিউটির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের জন্য যতটা সম্ভব সহায়ক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও বলেন, রাজস্ব কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে এনবিআর কাজ করছে। ট্যাক্সের আওতা বাড়ানো অবশ্যই প্রয়োজন। বৈষম্য দূর করতে পুরো জাতি এ বিষয়ে একমত।