প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ সেই তরুণের মরদেহ উদ্ধার
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬ ১২:১২ pm
চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তের হামলার পর হালদা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ সাব্বির (২১) নামের এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। টানা তিন দিনের অভিযান শেষে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে হালদা নদীর রাউজানের পশ্চিম পাশে ছায়ার চর নামক এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গত শনিবার দুর্বৃত্তের হামলা থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয় সাব্বির।সাব্বির (২১) রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মৈশকরম গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুউল্লাহ চৌধুরীবাড়ির বাসিন্দা। তিনি আব্দুল মান্নান ও মনোয়ারা বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে এবং দুই বোনের একমাত্র ভাই। তিনি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন।
হালদা অস্থায়ী নৌ পুলিশের এএসআই মো. রমজান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা তিন দিন ধরে সাব্বিরের খোঁজে নদীতে টহল দিয়ে আসছি।
আজ সকালে নদীতে বালু তোলার লোকজন নদীতে উপরি অবস্থায় মানুষের একটি মাথা দেখতে পেয়ে নৌ পুলিশকে খবর দেয়। এরপর সকাল পৌনে ৯টার দিকে আমরা নদীর মাঝ থেকে ভাসমান অবস্থায় সাব্বিরের লাশ উদ্ধার করি। পরে পরিবারের লোকজন তার পরিচয় চিহ্নিত করে। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাব্বির তার বন্ধু মো. মারুফকে সঙ্গে নিয়ে একটি ওরশ মাহফিলে অংশ নিতে রামদাসহাটে যান। অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে দুজনই নদীতে ঝাঁপ দেন। মারুফ আহত অবস্থায় ফিরে এলেও সাব্বির আর ভেসে ওঠেননি।
হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, ওরশে বন্ধুদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে সাব্বিরের মাথায় আঘাত করা হলে তিনি নদীতে লাফ দেন এবং তলিয়ে যান। বিষয়টি জানার পর পুলিশ ও প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। এলাকায় ভদ্র ও পরিশ্রমী যুবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। দলীয় কোনো পদবি না থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে তাকে দেখা যেত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।সাব্বিরের চাচা মো. মোতালেব বলেন, ‘সারা দিন কাজ করে বন্ধুকে নিয়ে ওরশে গিয়েছিল। এই যাওয়া যে তার শেষ যাওয়া হবে, তা কখনো ভাবিনি।’
প্রতিবেশী মো. ইলিয়াস জানান, ‘মারুফের ভাষ্য মতে, দুর্বৃত্তদের আঘাতে তারা নদীতে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু সাব্বির আর জীবিত ফিরে এলো না।’
এদিকে ঘটনার পর পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশাহারা পরিবার।