জানুয়ারি ১৩, ২০২৬ ১২:৩৩ pm
প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মেলেনি, প্রাথমিকের ফল প্রকাশ নিয়ে যা বললেন কর্মকর্তা
বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, দেশের ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে গ্রাহকের কাছে থাকা সিমকার্ড কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নভেম্বর থেকে গ্রাহকের বিপরীতে ১০টির বেশি সিম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে দেশের চারটি সিম অপারেটরের বিপরীতে ১৯ কোটি ৪২ লাখ মোবাইল ব্যবহারকারী ছিল। এর এক বছর পর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সে সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৮৭ লাখ এবং বর্তমানে (নভেম্বর-২৫) সে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ কোটি ৭০ লাখে। গত ছয় মাসে ধারাবাহিকভাবে কমছে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা।
ব্রডব্যান্ড (আইএসপি ও পিএসটিএন) ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়লেও কমছে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা।
বিটিআরসির তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করছে ১১ কোটি ৫২ লাখ গ্রাহক। গত জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ১৫ লাখ। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় এ সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৫ লাখেরও বেশি। তবে জুলাইয়ে ইন্টারনেট বন্ধ, সরকারি বিধিনিষেধ ও অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর নানামুখী কড়া বিধিনিষেধের কারণে এ সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমলেও বেড়েছে ব্রডব্যান্ডের গ্রাহক। বর্তমানে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহাকারীর সংখ্যা ১ কোটি ৪৬ লাখ। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ।
দেশে ধারাবাহিকভাবে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের কড়াকড়ি, সিম কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত, মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্যবৃদ্ধি ও ব্রডব্যান্ডের সহজলভ্যতা।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মোবাইল হ্যান্ডসেট ও মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমার ক্ষেত্রে দুটি কারণ হতে পারে। প্রথমত, সিমকার্ড কমিয়ে নিয়ে আসা। দ্বিতীয়ত, ব্রডব্যান্ডের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়া। কারণ সিমের ব্যবহার যখন কমে যাবে তখন দেখা যাবে মানুষের মোবাইল ব্যবহারের সংখ্যা কমে যাবে। আবার সেটার প্রভাব পড়বে ইন্টারনেটেও। কারণ মানুষ এখন ব্রডব্যান্ডের সুবিধা নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কভিড-১৯-এর সময়ে যখন মোবাইল ব্যবহারকারী ও ইন্টারনেটের গ্রাহক বেড়ে গিয়েছিল। প্যানডেমিক পরিস্থিতি শেষে সেটা কমে আসে। আর্থিক কারণে না হয়তো, ব্যবহারের সীমাবদ্ধতার কারণে এমনটা হতে পারে।’
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সিমকার্ড ১০টিতে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে খুব বেশি প্রভাব পড়ার কথা নয়। তবে পাঁচটিতে নামিয়ে আনলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বাজারের ওপর। তখন রাজস্ব ও অন্যান্য খাতে প্রভাব পড়বে।’