সোমবার, মার্চ ২, ২০২৬

মানুষের প্রত্যাশা; অর্থনৈতিক জীবনেও স্বস্তি ফিরে আসবে

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ ২:০২ pm

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের ১৮ মাসে অর্থনীতিতে একটা স্থবিরতা দেখা গেছে। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার আস্থা সংকটের কারণে দেশে পর্যাপ্ত বিদেশি বিনোয়গ হয়নি এ সময়ে।

অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান মনে করেন, গত ১৮ মাসে প্রবৃদ্ধি কমেছে, কর্মসংস্থানের দিক থেকেও সংকোচন হয়েছে। বর্তমানে সরকারি ভাষ্য অনুসারেই দেশের প্রায় ৩০ লাখ লোক বেকার।

অর্থনীতির বাইরে সামাজিক ক্ষেত্রেও সহিংসতাসহ নানা অস্থিরতা ছিল। সব মিলিয়ে আস্থার অভাব থাকায় দেশে বিনিয়োগ সেভাবে হয়নি।গতকাল মঙ্গলবার গঠিত হয়েছে নির্বাচিত সরকার। শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা।

নির্বাচিত সরকারের কাছে তিন দিক থেকে মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে বলে মনে করেন মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তরের সাবেক পরিচালক সেলিম জাহান।

প্রত্যাশাগুলো হলো—

১. অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় বাড়বে।
২. বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নতি হবে।
৩. বিদ্যমান সমস্যাগুলো সরকার যেন ধীরে ধীরে কমিয়ে আনে।

প্রথম প্রত্যাশা, অর্থনীতির বিভিন্ন জায়গায় যে অস্থিরতা ও স্থবিরতা আছে, সেখানে যেন একটা গতি ও স্থিতিশীলতা আসে। মানুষের প্রত্যাশা শুধু সামাজিক বা পারিবারিক জীবনে নয়; অর্থনৈতিক জীবনেও স্বস্তি ফিরে আসবে।

দ্বিতীয় প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতেই হবে। এ জন্য যদি মূল্যস্ফীতি ও সুদহার কমিয়ে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যায়, তাহলে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে। আর বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে শুধু অর্থনৈতিক প্রণোদনা দিলে হবে না।

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা চান দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতি ধারাবাহিকতা।তৃতীয়ত, দেশের অর্থনীতির কিছু দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা নিয়েও মানুষের ভাবনা রয়েছে। যেমন বাংলাদেশের ঋণের ভার অত্যন্ত বেশি। বর্তমানে রাজস্ব আয়ের তুলনায় রাজস্ব ব্যয় অনেক বেশি। ফলে জনগণের প্রত্যাশা, সরকার এই অসমতা কাটিয়ে উঠতে সরকারি খরচ কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

দেশের একটি জাতীয় দৈনিতে এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন সেলিম জাহান। সেখানে তিনি বলেছেন, নতুন সরকারকে সুষম উন্নয়নে জোর দিতে হবে। সুষম উন্নয়নের দুটি দিক রয়েছে। একটা দিক হচ্ছে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে একটা সমতা তৈরি করা। আরেকটা দিক হচ্ছে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে একটা সমতা সৃষ্টি করা।

সেলিম জাহান বলেন, ‘আমাদের দারিদ্র্যের হার বেড়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে তিন কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে বাস করে। ছয় কোটির মতো মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে। শুধু আয়ের অসমতা নয়, সম্পদের অসমতাও রয়েছে। আবার সুযোগের অসমতাও বড় একটি বিষয়।’

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যেও একটা বৈষম্য রয়েছে জানিয়েছে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘দেশের উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গ বা ঢাকার আশপাশের তুলনা করলে দেখা যায়, বহু দিক থেকে তারা বঞ্চিত। এ সমস্যার সমাধানে সরকারকে অর্থ বণ্টনে সচেতন হতে হবে।’

‘আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরি। বিগত সময়ে আর্থিক খাতে প্রচুর অনিয়ম হয়েছে। ব্যাংকের পর ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে; প্রয়োজন আছে কি না, দেখা হয়নি। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পারিবারিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ঋণ খেলাপি একটা বড় সমস্যা। তবে ভালো করার জায়গাও রয়েছে। আর্থিক খাতের সুবিধা হচ্ছে, সেখানে কতগুলো বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন আছে। সেগুলোকে আবার কার্যকর করতে হবে, মানতে হবে।’