ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ ৭:২৮ pm
এবারের নির্বাচনে বিএনপি ছেড়ে জামায়াত জোটে গিয়ে পতন হয়েছে আলোচিত নেতা অলি আহমেদের। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ- সাতকানিয়া এলাকার ভোট বহু বছর ধরেই ছিল তার ঘরে। নেতা-কর্মীরা বলছেন, কর্নেল অলির দম্ভ আর জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় কপাল পুড়েছে তাঁর। নানা সমালোচনার মধ্যে জয়ী হয়ে চমক দেখিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দিন।
জানা গেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা চট্টগ্রামের চন্দনাইশের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম। ৯১ নির্বাচন থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সব নির্বাচনেই সাংসদ হয়ে আসছেন তিনি। ছিলেন বিএনপি সরকারের মন্ত্রীও। মূলত ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির সাথে দূরত্ব তৈরি হয় অলি আহমেদের। পরে গঠন করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
এবারের নির্বাচনে বিএনপি থেকে চাহিদামতো আসন না পেয়ে জামাতের সঙ্গে জোট করে ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন কর্নেল অলি। চন্দনাইশে তাঁর ছেলে ওমর ফারুককে প্রার্থী করলেও মাঠ চষে বেড়ান তিনি। অন্যদিকে বিএনপির সব পক্ষ এক হয়ে কাজ শুরু করে ধানের শীষের পক্ষে।
চন্দনাইশ উপজেলা যুবদল সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘চন্দনাইশে বিএনপির কর্মী, সচেতন মানুষ ছাড়াও যারা জাতীয়বাদী মনোভাব সম্পন্ন মানুষ তারাও কিন্তু মানসিকভাবে অলি সাহেবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।’তারপরও সবাইকে সাথে নিয়েই কাজ করতে চান বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী।নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন বলেন, ‘আমার নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে মিলেমিশে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করব।’
মূলত জামায়াত জোট যুক্ত হওয়ায় অলির এই পতন বলে মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু তিনি দূষছেন প্রশাসনকে।
এ বিষয়ে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ বলেন, ‘ওমর ফারুকের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ভোট বাতিল বলে গণ্য করেছে। আমাদের এজেন্টরা যখন এদের চ্যালেঞ্জ করেছে, বাতিলগুলো কেন করা হলো, কীভাবে করা হলো, এগুলো দেখানো হয়নি।’ দিন-রাত মাঠ চষে প্রাণপণ চেষ্টা করেও রক্ষা করতে পারেনি এতদিনের দূর্গ। এটাকে বিএনপি প্রার্থীর বড় চমক হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।