সোমবার, মার্চ ২, ২০২৬

ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হতে পারে আঞ্চলিকতা

ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ ১১:৩০ am

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর) পুরোদমে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা। এই আসনে আটজন প্রার্থী হলেও মূলত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন, বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি কেএম আনোয়ারুল ইসলাম ও জামায়াত প্রার্থী আলী আছগারের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এবারের নির্বাচনে দলীয় সমর্থন ছাড়াও আঞ্চলিকতা জয় পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮০৪ জন।

এরমধ্যে চাটমোহর উপজেলার মোট ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ১১৭ জন, ভাঙ্গুড়া উপজেলার মোট ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৯৬৮ জন এবং ফরিদপুর উপজেলার মোট ভোটার ১ লাখ ১৭ হাজার ৭১৯ জন। এতে ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার চেয়ে চাটমোহর উপজেলায় ৩৩ হাজার ৪৩০ ভোট বেশি। তাই নির্বাচনে চাটমোহর উপজেলার ভোটারদের ভৌগোলিকতা ও আঞ্চলিকতা পাল্টে দিতে পারে ভোটের হিসাব-নিকাশ।অনুসন্ধানে জানা যায়, এই আসনে তিনটি উপজেলার মধ্যে প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটে উপজেলা চাটমোহর থেকে সবশেষ ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে এম আনোয়ারুল ইসলাম বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এরপর ভাঙ্গুড়া উপজেলার বাসিন্দা আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকবুল হোসেন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিল ফরিদপুর উপজেলার বাসিন্দা সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম। এরপর বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনে মকবুল হোসেন বিজয়ী হন। সবশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী চাটমোহরের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ চাটমোহরে প্রায় ১৭ হাজার ভোটে জয়লাভ করলেও অন্য দুই উপজেলায় ৩৫ হাজার ভোটে হেরে পরাজিত হন।
ফলে চাটমোহর উপজেলার ভোটারদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার প্রয়াস রয়েছে।এ অবস্থায় বিএনপির দলীয় প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন সুজানগরের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে চাটমোহরে নিজস্ব বাসভবন নির্মাণ করে পরিবারসহ বসবাস করছেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। এ ছাড়া জামায়াতের প্রার্থী আলী আছগার নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে এখানে ভোট ব্যাংক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী চাটমোহরের বাসিন্দা কে এম আনোয়ারুল ইসলাম তার পূর্বের জনপ্রিয়তা, অভিজ্ঞতা ও আঞ্চলিকতা ইস্যুতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তাই এ বছর চাটমোহরের ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।

ফলে যিনি চাটমোহরের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারবেন, তিনি নির্বাচনে জয়ের মালা পরবেন বলে ধারণা ভোটারদের।এই আসনে সবচেয়ে ছোট উপজেলা ভাঙ্গুড়া। এখানে বিএনপি প্রার্থী দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সুসংগঠিত হয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় জামায়াতের প্রার্থী আলী আছগার দলমত নির্বিশেষে ভোটের প্রার্থনা করছেন। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলামেরও নিজস্ব নেতাকর্মী রয়েছে। তাই তিনজন প্রার্থী এই উপজেলায় পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

আসনের ফরিদপুর উপজেলা থেকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী না থাকায় ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি, জামায়াত ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী। এ উপজেলায় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে পূর্ব থেকেই শক্তিশালী হলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর নিজস্ব বলয় রয়েছে। পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীর ভোটব্যাংক রয়েছে এই উপজেলায়। ফলে ভোটারদের ধারণা, এই উপজেলায় তিন প্রার্থীর মধ্যে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

এই আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন, গণ অধিকার পরিষদের হাসানুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল খালেক, গণ ফোরামের আশা পারভিন, জাতীয় পার্টির মীর নাদিম, সুপ্রিম পার্টির মাহবুবুর রহমান।