সোমবার, মার্চ ২, ২০২৬

অরিজিৎ জিয়াগঞ্জ থেকে যেভাবে পৌঁছলেন মুম্বাই

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ ১:১২ pm

পশ্চিমবঙ্গের জিয়াগঞ্জের সেই সাধারণ ছেলেটি যেমন করে নিজের স্বপ্ন ছুতে পেরেছে। তেমন করেই আজও তিনি শিখতে চান, নিজের মতো করে আরও কিছু করতে চান। সংগীতকে নিজের মতো করে ভালবাসতে চান। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে আজও অরিজিৎ সিংকে দেখা যায় স্কুটি চেপে সাধারণ মানুষের মতোই ঘুরে বেড়াতে।

তারকা খ্যাতি, বিশ্বমঞ্চের সাফল্য কিছুই তাঁকে শিকড় থেকে আলাদা করতে পারেনি। তবে এই জিয়াগঞ্জ থেকে মুম্বাই পর্যন্ত যাত্রাটা তাঁর মোটেই সহজ ছিল না। ছিল কঠোর পরিশ্রম আর নিরন্তর সংগ্রাম।মুম্বাইয়ে দীর্ঘদিন ভাড়া বাড়িতে থেকে লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন অরিজিৎ।

গায়ক হিসেবে পরিচিত হওয়ার অনেক আগেই তিনি কাজ করতেন মিউজিক প্রোগ্রামার হিসেবে। দিনের পর দিন স্টুডিওতে কাটিয়েছেন, গান বানানোর খুঁটিনাটি শিখেছেন, তৈরি করেছেন নিজের স্টুডিও। কাজের ফাঁকে ফাঁকে শিখতে থেকেছেন সংগীতের নানা দিক। শঙ্কর-এহসান-লয়, মিঠুন, প্রীতম, বিশাল-শেখরের মতো তাবড় সংগীত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করে নিজের দক্ষতাকে আরও শাণিত করেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে অরিজিৎ সিং বলেছিলেন, চেষ্টা আর রেওয়াজের মাধ্যমে তিনি নিজের গলাকে ভেঙে নতুন করে গড়েছেন।

‘আত্মীয়-স্বজনরা ফোন করে বলছে তুই নাকি মৌসুমীকে বিয়ে করেছিস’

১৯৮৭ সালের ২৫ এপ্রিল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন অরিজিৎ সিং। মাত্র ১৮ বছর বয়সে, ২০০৫ সালে, তিনি অংশ নেন জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’-এ। গুরু রাজেন্দ্র প্রসাদ হাজারির অনুপ্রেরণায় সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। প্রতিযোগিতায় জয়ী না হলেও, এই মঞ্চই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

এখান থেকেই সংগীতজগতের দরজা ধীরে ধীরে খুলে যেতে শুরু করে।এরপর টানা প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি হিন্দি, বাংলা সহ বিভিন্ন ভাষায় অসংখ্য সুপারহিট গান উপহার দিয়েছেন শ্রোতাদের। প্রেম, বিরহ, আশা, মানুষের জীবনের প্রায় সব আবেগকেই তিনি তাঁর সুরে বেঁধে ফেলেছেন। অরিজিৎ সিং মানেই যেন অনুভূতির নাম, হৃদয়ের কথা বলার এক নাম।

সেই দীর্ঘ অধ্যায়ে এবার ইতি টানলেন তিনি। মঙ্গলবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টের মাধ্যমে অরিজিৎ সিং ঘোষণা করেন, তিনি প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে অবসর নিচ্ছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “হ্যালো, সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। এত বছর ধরে শ্রোতারা, যে হিসেবে আমাকে অকুণ্ঠ ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, এখন থেকে আমি আর প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে কোনও নতুন অ্যাসাইনমেন্ট নেব না। এই অধ্যায় এখানেই শেষ করছি। এটি ছিল এক অসাধারণ যাত্রা, আর ঈশ্বর আমার প্রতি সত্যিই দয়ালু ছিলেন।”

এই ঘোষণায় আবেগে ভেসেছেন তাঁর অগণিত ভক্ত। তবে অরিজিৎ এও জানিয়েছেন, অবসর মানেই সংগীতজগৎ থেকে বিদায় নয়। তিনি লিখেছেন, “আমি সংগীত ছাড়ছি না। ভালো সংগীতের একজন অনুরাগী হিসেবে আমি আরও শিখতে চাই, নিজের মতো করে আরও কিছু করতে চাই। এখনও কিছু প্রতিশ্রুতি বাকি রয়েছে, সেগুলো পূরণ করব। তাই ২০২৬ সালে আমার কিছু গান মুক্তি পেতে পারে।”