সোমবার, মার্চ ২, ২০২৬

আমেরিকাকে সতর্ক করে গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে ইরানের মুরাল উন্মোচন

জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ১২:২৭ pm

রবিবার তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে নতুন একটি দেয়ালচিত্র (মুরাল) উন্মোচন করেছে ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সতর্ক করে বলা হয়েছে—ইরানের ওপর যেন কোনো সামরিক হামলার চেষ্টা না করা হয়।

গত ২৫ জানুয়ারি তেহরানে একটি বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে যানবাহন চলতে দেখা যায়, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও অচল যুদ্ধবিমানের ছবি দেখানো হয়েছে।

দেয়ালচিত্রটিতে একটি বিমানবাহী রণতরীর ওপর ধ্বংসপ্রাপ্ত কয়েকটি যুদ্ধবিমানের ছবি আঁকা রয়েছে।

এর সঙ্গে ইংরেজিতে লেখা আছে, ‘ইফ ইউ সোও দ্য উইন্ড, ইউ উইল রিপ দ্য ওয়ালউইন্ড।’ অর্থাৎ বোঝানো হয়েছে, ‘বাতাসের বীজ বপন করলে, টর্নেডো পাবে’। ভাবানুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘খারাপ কাজের বীজ বুনলে ভয়াবহ পরিণতিই ফল হিসেবে পাওয়া যাবে।’এই দেয়ালচিত্রটি এমন সময় উন্মোচন করা হয়েছে, যখন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও তার সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো ওই অঞ্চলের দিকে এগোচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যদি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, সেই সম্ভাবনার কথা ভেবেই জাহাজগুলো সরানো হচ্ছে।ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমাদের একটি বিশাল নৌবহর ওই দিকে যাচ্ছে। হয়তো আমাদের সেটি ব্যবহার করতেই হবে না।’ এঙ্গেলাব স্কয়ার সাধারণত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ও সমাবেশের জন্য ব্যবহার করা হয়।

জাতীয় বিভিন্ন উপলক্ষ অনুযায়ী এখানকার দেয়ালচিত্র পরিবর্তন করা হয়।শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার বলেন, ‘তাদের বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রস্তুত, ট্রিগারে আঙুল রাখা আছে।’

ইরানে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে ভয়াবহ সহিংসতার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং কয়েক দশক হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা চালিয়ে যায় বা আটককৃতদের গণহত্যা করে, তবে তিনি সামরিক পদক্ষেপ নেবেন।

গত কয়েক দিনে নতুন কোনো বিক্ষোভ হয়নি। ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, তেহরান প্রায় ৮০০ আটক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ করেছে। তবে ইরানের প্রধান কৌঁসুলি এই দাবিকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে জানিয়েছেন। তবুও ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কোনো সামরিক অভিযান হলে, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা তুচ্ছ মনে হবে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছে, তাদের এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান এখন মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। তাদের মতে, এই বিমানগুলো যুদ্ধের প্রস্তুতি বাড়ায় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করে। একইভাবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে কাতারে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।

ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। দেশটির মুদ্রার বড় ধরনের পতনের কারণে এই আন্দোলন শুরু হয় এবং দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠী এই বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করে, কারণ তারা কোনো ভিন্নমত সহ্য করে না। বিক্ষোভ শেষ হওয়ার পরও নিহতের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা।

প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এটি ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি রবিবার জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৫৯ জনে পৌঁছেছে এবং তা আরো বাড়তে পারে। তারা বলেছে, ৪০ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরান সরকার নিহতের সংখ্যা অনেক কম বলে জানিয়েছে। তাদের দাবি, ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছে। যার মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জন বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। বাকি নিহতদের তারা ‘সন্ত্রাসী’ বলে উল্লেখ করেছে। অতীতে ইরান সরকার বিক্ষোভে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা কম দেখিয়েছে বা প্রকাশই করেনি।