নির্বাচন ঘিরে জমজমাট মাদকের কারবার
জানুয়ারি ২৪, ২০২৬ ৫:৪১ pm
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্রাচনকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী জেলা ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা। ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার, অর্থ জোগান এবং কর্মী সমর্থকদের চাঙ্গা রাখতে মাদককে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রার্থীদের অনুসারী কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি মাদক কারবারিদের সঙ্গে আঁতাত করে এসব কার্যক্রম চালাচ্ছেন। নির্বাচনী মিছিল, পোস্টার সাঁটানো কিংবা প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখাতে মাদকাসক্ত যুবকদের ব্যবহার করা হচ্ছে।
এতে সাধারণ মানুষ যেমন আতঙ্কিত, তেমনি ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ব্যস্ত সময় পার করছে। এ সুযোগে জেলা শহর ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম ব্যাপক বেড়েছে।
মাদক কেনাবেচার জন্য খোঁজ পাওয়া স্থানগুলো হলো জেলা শহরের কালিকাপুর, চাকলাপাড়া, হামদহ, আরাপপুর, পবহাটি, সাধুহাটি, হাটগোপালপুর, খাজুরা; কালীগঞ্জের কাশিপুর, চাচড়া, শিবনগর, আড়পাড়া, ঢাকালে পাড়া, বলিদাপাড়া, সিংঙ্গী, ফয়লা, হেলাই মাস্টারপাড়া, পাইকপাড়া, চাপালী, আনন্দবাগ, খয়েরতলা এবং শৈলকুপার কবিরপুর, শেখপাড়া, ফুলহরি, কাচেরকোল, ভাটইবাজারসহ আশপাশের গ্রাম।
এসব এলাকায় দুপুর থেকে থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে মাদক বেচাকেনা। এসব মাদক মহেশপুর সীমান্ত থেকে সড়কপথে মাদকের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে।সূত্র জানায়, গত কয়েক সপ্তাহে ঝিনাইদহ জেলায় ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের সরবরাহ বেড়েছে কয়েক গুণ। আগে যেসব এলাকায় মাদক লেনদেন তুলনামূলক কম ছিল, সেখানেও এখন প্রকাশ্যে চলছে কেনাবেচা।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকার নির্দিষ্ট কিছু চায়ের দোকান, পরিত্যক্ত ভবন, খেলার মাঠ ও গ্রামের নদীর চরে মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আনাগোনা চোখে পড়ছে। এসব জায়গায় মাদক কেনাবেচা হচ্ছে খোলামেলা পরিবেশে।স্থানীয়রা জানায়, তারা মাদকের বিষয়টি জানে। তবে অনেকে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পায়। আসন্ন নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীর অনুসারী ও প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে।
স্থানীয় প্রশাসন মাঝেমধ্যে নামমাত্র অভিযান চালিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের আটক করলেও বড় বড় কারবারিরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরের থেকে যায়। তারা মোটা অংকের টাকার বিনমিয়ে থানা পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেন।জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্র্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জরুরি। তবে এবারের নির্বাচনে জেলাজুড়ে যে পরিমাণ মাদকের স্পট বেড়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগ ও আতঙ্কের। প্রার্থীদের অনুসারীরা ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করতে মাদকসেবীদের ব্যবহার করছে। এমনকি নির্বাচনী সহিংসতায় তাদের কাজে লাগানো হচ্ছে।
আনোয়ারুজ্জামান আরো বলেন, নির্বাচনের আমেজে উৎসবের বদলে যদি মাদকের দৌরাত্ম্য বাড়ে, তবে তা শুধু ভোটের পরিবেশ নয়, পুরো সমাজকেই অনিরাপদ করে তুলবে। তাই এদিকে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত নজর দেওয়া প্রয়োজন।’
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো. বিল্লাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক কারাবারিদের আটক করা হচ্ছে। এছাড়া আমরা গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়েছি।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছি। আশা করছি শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।’