মাঠ ছেড়ে যাওয়া দলকে ফিরিয়ে এনে যেভাবে চ্যাম্পিয়ন বানালেন মানে
জানুয়ারি ১৯, ২০২৬ ৪:৫১ pm
সাদিও মানে আবারও সেনেগালের ত্রাতা হয়ে দেখা দিলেন, তবে এবার শুধু গোল করে নয়, বরং নিজের অসাধারণ নেতৃত্ব আর ক্রীড়াসুলভ মানসিকতা দিয়ে। স্বাগতিক মরক্কোকে হারিয়ে আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (আফকন)-এর শিরোপা ধরে রাখল সেনেগাল। তবে এই জয় ছাপিয়ে আলোচনায় সাদিও মানের খেলোয়াড়ি ব্যক্তিত্ব।
ফাইনালের নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে (৯৮ মিনিটে) মরক্কো পেনাল্টি পেলে বিতর্কের ঝড় ওঠে।
ক্ষোভে সেনেগালের প্রধান কোচ পাপে থিয়াও তার দলকে মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে নিয়ে যান। খেলা বন্ধ থাকে দীর্ঘ ১৬ মিনিট। এমন সংকটময় মুহূর্তে ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান সাদিও মানে। গোলরক্ষক এডুয়ার্ড মেন্ডিকে সঙ্গে নিয়ে ড্রেসিংরুমে গিয়ে সতীর্থদের বুঝিয়ে আবারও মাঠে ফিরিয়ে আনেন তিনি।
ম্যাচ শেষে মানে বলেন, ‘ফুটবল সারা বিশ্বের মানুষ ভালোবাসে। রেফারি পেনাল্টি দিয়েছে বলে আমরা মাঠ ছেড়ে চলে যাব, এটা ফুটবলের জন্য খুব বাজে একটা চিত্র হতো। এই ধরনের আচরণের চেয়ে হেরে যাওয়াও অনেক সম্মানের।’
দীর্ঘ বিরতির পর খেলা শুরু হলে মরক্কোর তারকা ব্রাহিম দিয়াজ পেনাল্টি নিলেও তা রুখে দেন সেনেগাল কিপার মেন্ডি।
নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে পাপে গুয়ের দুর্দান্ত এক গোলে জয় নিশ্চিত করে সেনেগাল। ট্রফি নেওয়ার আগে সতীর্থরা ভালোবেসে মানের হাতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরিয়ে দেন।৩৩ বছর বয়সী সাদিও মানে ঘোষণা করেছেন এটিই তার শেষ আফকন। তবে দলের তরুণ তুর্কি পাপে গুয়ে এবং কোচ পাপে থিয়াও তাকে এখনই যেতে দিতে রাজি নন। ২০২৭ সালের পরবর্তী আসরেও মানেকে দলে পেতে চান তারা।
কোচের মতে, মানে আবেগের বশে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা পুরো দেশ পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছে।
বম্বালি নামের ছোট্ট গ্রাম থেকে উঠে আসা মানে শুধু ফুটবলার হিসেবেই নন, মানুষ হিসেবেও অনন্য। নিজ গ্রামে হাসপাতাল, স্কুল ও মসজিদ নির্মাণ এবং করোনাকালে অর্থ সহায়তার মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষের প্রিয় ‘সাদিও’। লিভারপুলে থাকাকালীন মসজিদের টয়লেট পরিষ্কার করার মতো বিনয়ী কাজ করেও তিনি প্রমাণ করেছেন আভিজাত্য তার বিনয়ে, অহংকারে নয়।
সেনেগালের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৫৩ গোল) সাদিও মানে আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি শুধু পায়ের জাদুতে নয়, হৃদয়ের বিশালতা দিয়েও ফুটবল বিশ্ব জয় করতে জানেন।