হারানোর আগেই যে নিয়ামতের কদর করা দরকার
জানুয়ারি ১৫, ২০২৬ ১২:৫৪ pm
মানুষের জীবনে আল্লাহ তায়ালার দানকৃত নিয়ামতের সংখ্যা এত বেশি যে, তা গণনা করে সংখ্যা বের করা অসম্ভব। তবে সব নিয়ামতের মূল্য মানুষ সমানভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। বিশেষ করে যেসব নিয়ামত নীরবে, স্বাভাবিকভাবে আমাদের সঙ্গে থাকে— সেগুলোর গুরুত্ব আমরা বুঝতে পারি সাধারণত হারানোর পর। সময় ও সুস্থতার মতো মহামূল্যবান দান নিয়ে মানুষের এই অবহেলা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ্ ﷺ আমাদের সচেতন করতে একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنْ النَّاسِ الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ
ইবনে ’আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত— তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এমন দুটি নিয়ামত আছে, যে দুটিতে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হচ্ছে, সুস্থতা আর অবসর। (বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)
হাদিসের ব্যাখ্যা
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের জীবনের দুটি অতিগুরুত্বপূর্ণ অথচ সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়িত নিয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন; ১. সুস্থতা ২. অবসর।
সুস্থতা এমন এক নিয়ামত, যার মাধ্যমে মানুষ ইবাদত, উপার্জন, জ্ঞানার্জন ও সমাজসেবার মতো কল্যাণকর কাজ সহজে সম্পন্ন করতে পারে।কিন্তু মানুষ সাধারণত সুস্থ থাকার সময় এর কদর করে না; বরং রোগাক্রান্ত হওয়ার পরই সে উপলব্ধি করে সুস্থতার প্রকৃত মূল্য।অপরদিকে, অবসর বা সময় এমন এক অমূল্য সম্পদ, যা একবার চলে গেলে আর ফিরে আসে না। মানুষ যখন অবসর পায়, তখন সে যদি সেই সময়কে আল্লাহর আনুগত্য, আত্মশুদ্ধি ও উপকারী কাজে ব্যয় না করে অলসতা, অসচেতনতা বা অর্থহীন ব্যস্ততায় নষ্ট করে ফেলে, তাহলে প্রকৃত অর্থে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ সময়ই মানুষের আমল বৃদ্ধির মূল ক্ষেত্র।
এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত বুদ্ধিমান সে-ই, যে সুস্থতা ও অবসরকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। কেননা কিয়ামতের দিন মানুষকে তার সময় ও সুস্থতার ব্যবহার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। সুতরাং এই দুটি নিয়ামতকে অবহেলা না করে সচেতনভাবে কাজে লাগানোই মুমিন জীবনের সাফল্যের চাবিকাঠি।