সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১০:১৬ pm
এ সময় তিনি জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত কক্সবাজারে মোট ৩ হাজার ৩৯৯টি মামলা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে মামলা হয়েছিল ৩ হাজার ১১৭টি।
পুলিশ সুপার জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে ৩১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬৩ জন ছিনতাইকারী, ১০৪ জন মাদকসেবী এবং ৪৮ জন চোর রয়েছেন।
এসপি বলেন, চিহ্নিত ও পেশাদার ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। তবে তাদের অনেকে দ্রুত জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিহ্নিত অপরাধীদের জামিনের বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চান তিনি।
পুলিশ সুপার বলেন, অপহরণ, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের আইনি সহায়তা দিয়ে দ্রুত জামিনে সহযোগিতা করা কিছু আইনজীবীর তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে। পেশাদার অপরাধীদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তাকারীদের বিষয়েও নজরদারি রয়েছে। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সক্রিয় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের বিরুদ্ধেও সাম্প্রতিক অভিযানের তথ্য তুলে ধরেন এসপি। পুলিশের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের রং ও নম্বরপ্লেট পরিবর্তন করে মহাসড়কে ডাকাতি করে থাকে। গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির গতিবিধি শনাক্ত করে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৩০টির বেশি মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত বাদল ডাকাতসহ চক্রটির কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া চলতি বছরের প্রথম আট মাসে অস্ত্র আইনে ৬২টি মামলা হয়েছে এবং ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৮৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ২২৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন এলাকা ও মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।