মে ২৫, ২০২৬ ১১:১৭ am
বইটিতে তিনি উল্লেখ করেন, ওয়েজ বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মী চাকরি ছাড়তে চাইলে তাকে দুই মাস আগে নোটিশ দিতে হয়। সেই নিয়ম মেনে নিজের জন্মদিনে পদত্যাগের নোটিশ দেন সুদীপ্ত সালাম। তার পরিকল্পনা ছিল, এক মাস কাজ করে বাকি এক মাস ছুটি ভোগ করবেন।
তিনি লিখেছেন, তখনও তার নতুন কোনো চাকরি ছিল না, সেই অর্থ তার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু যুক্তি দেওয়া হয়, তার ক্যামেরা ও কম্পিউটার এক মাস অব্যবহৃত পড়ে থাকতে পারবে না।
পদত্যাগের নোটিশ দেওয়ার পরপরই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনুসন্ধান শুরু হয় বলেও বইতে উল্লেখ করেছেন সুদীপ্ত। প্রশাসন বিভাগের প্রধান উৎপল কুমার চক্রবর্তী এবং ব্যবস্থাপক এবিএম খায়েরুল কবির তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের তদন্ত পরিচালনা করেন। কিন্তু কোনো অনিয়ম বা অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তার ভাষায়, কোনো অভিযোগ খুঁজে না পাওয়ায় বেতন বা অন্যান্য প্রাপ্য থেকে কাটছাঁট করার সুযোগ না পেয়ে অন্য উপায়ে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এর অংশ হিসেবে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আটকে দেওয়া হয়।
সুদীপ্ত জানান, তিনি যখন প্রথম আলোতে যোগ দেন, তখন একটি নিয়ম ছিল অফিস থেকে দেওয়া মোটরসাইকেল ছয় বছর ব্যবহার করলে সেটির মালিকানা কর্মীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি ২০১৪ সালের শেষদিকে একটি পুরনো মোটরসাইকেল পান এবং ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি নতুন মোটরসাইকেল দেওয়া হয়।
কিন্তু পরে ব্যবস্থাপক খায়েরুল কবির জানান, ছয় বছরের হিসাব পুরনো মোটরসাইকেল থেকে ধরা হবে। আবার পরবর্তীতে নতুন করে জানানো হয়, এখন সাত বছর পূর্ণ করতে হবে।
সুদীপ্ত বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিনি ২০ হাজার টাকায় মোটরসাইকেলটি কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেটিও প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এ সময় অনেকে তাকে পরামর্শ দেন, বিষয়টি প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানকে জানাতে। কিন্তু সুদীপ্ত তা করেননি।
সুদীপ্ত সালামের এ অভিজ্ঞতা প্রথম আলোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কর্মীদের অধিকার, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার বিষয়টি কতটা মানা হয়, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।