গাজা নৌবহর কর্মীদের নিয়ে উপহাস, বিতর্কে ইসরায়েলের ডানপন্থী মন্ত্রী
মে ২১, ২০২৬ ১২:২৭ pm
গাজাগামী সাহায্যবাহী নৌবহর আটক করার পর ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ইসরায়েলের আচরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির-এর একটি ভিডিও প্রকাশের পর।
ভিডিওতে দেখা যায়, আটক কয়েকজন কর্মী হাত বাঁধা অবস্থায় হাঁটু গেড়ে বসে আছেন এবং মন্ত্রী তাদের নিয়ে উপহাস করছেন। পরে আরো একটি ভিডিওতে আন্দোলনকারীদের একটি জাহাজের ডেকে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত বাজানোর দৃশ্যও দেখা যায়।ভিডিওটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডাসহ একাধিক দেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ঘটনাটিকে ‘ঘৃণ্য’ বলে আখ্যা দেন।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, দৃশ্যগুলো ‘সম্পূর্ণ লজ্জাজনক’ এবং ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে ইসরায়েলি দূতাবাসকে তলব করা হয়েছে।কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একে ‘জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আচরণ ‘অপমানজনক’।
একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও স্পেন বেন-গভিরের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানায় এবং নিজেদের দেশে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে।
ইসরায়েলের ভেতর থেকেও সমালোচনা আসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার নিজ মন্ত্রিসভার সহকর্মীর সমালোচনা করে বলেন, এই আচরণ দেশের ক্ষতি করেছে। জবাবে বেন-গভির বলেন, ইসরায়েল আর ‘দুর্বল দেশ নয়’।
পরে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের নৌ অবরোধ রক্ষা করার অধিকার রয়েছে, তবে বেন-গভির যেভাবে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আচরণ করেছেন তা দেশের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি আরও জানান, আটক কর্মীদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নৌবহরটির আয়োজক গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা দাবি করেছে, তারা গাজার জন্য খাদ্য, শিশুখাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী বহন করছিল। তাদের মতে, গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষ মানবিক সংকটে রয়েছে এবং অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত অবস্থায় আছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, গাজায় বিপুল পরিমাণ ত্রাণ প্রবেশ করছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বাস্তবে গাজায় বহু মানুষ এখনো তাঁবু ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছে, মৌলিক সেবা যেমন পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানির সংকট গুরুতর অবস্থায় রয়েছে।
এই সংঘাত শুরু হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় এক হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার পর। এরপর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৭৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।