শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

অভিশংসন কমিটি গঠন হলেও ক্ষমতা ছাড়বেন না রামাফোসা

মে ১৩, ২০২৬ ১২:১৬ pm

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সোমবার ঘোষণা করেছেন, তার গেম র‍্যাঞ্চের একটি সোফায় লুকিয়ে রাখা পাঁচ লাখ ডলারেরও বেশি নগদ অর্থ চুরির ঘটনা গোপন করে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ পুনঃতদন্তের জন্য একটি অভিশংসন কমিটি গঠন করা হলেও তিনি পদত্যাগ করবেন না।জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে রামাফোসা বলেন, তিনি সংসদের সেই প্রতিবেদনটিকে আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করবেন, যেটিতে তার বিরুদ্ধে অন্যায়ের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই প্রক্রিয়াটি তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিশংসন কার্যক্রমকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিলম্বিত করতে পারে। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন বিভিন্ন মহল, বিশেষ করে বিরোধী দলগুলো থেকে তাকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।তার এই ঘোষণাটি আসে দক্ষিণ আফ্রিকার সংসদের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর। সংসদ জানায়, গত সপ্তাহে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের একটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবেদনটি একটি অভিশংসন কমিটির কাছে পাঠানো হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত মেনেই সংসদ অভিশংসন কমিটি গঠন করবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা সোমবার বলেছেন, তার গেম র‍্যাঞ্চের একটি সোফার ভেতরে লুকিয়ে রাখা পাঁচ লাখ ডলারের বেশি নগদ টাকা চুরির ঘটনা গোপন করার অভিযোগ উঠলেও তিনি পদত্যাগ করবেন না। এই অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি অভিশংসন কমিটি গঠন করা হচ্ছে।তবে রামাফোসা বলেছেন, তার বিরুদ্ধে যে সংসদীয় প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে, তিনি সেটিকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করবেন। তিনি টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে জানান, আইনি লড়াইয়ের কারণে তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রক্রিয়া আরো দীর্ঘ হতে পারে।
এদিকে বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহল থেকে তাকে পদত্যাগের দাবি জানানো হচ্ছে।রামাফোসার এই বক্তব্য আসে দক্ষিণ আফ্রিকার সংসদের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর। সংসদ জানিয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিষয়টি এখন অভিশংসন কমিটির কাছে পাঠানো হবে।সোমবার রামফোসা বলেছেন, ‘আমি এটা স্পষ্ট করে দিতে চাই যে, আমি পদত্যাগ করব না। তা করলে সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত একটি প্রক্রিয়াকে অগ্রাহ্য করা হবে।
তা করলে এমন একটি প্যানেল রিপোর্টকে বিশ্বাসযোগ্যতা দেওয়া হবে, যাতে দুর্ভাগ্যবশত গুরুতর ত্রুটি রয়েছে।’শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালত রায় দেয়, ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট  রামাফোসার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার জন্য সংসদে হওয়া ভোটটি অসাংবিধানিক ছিল। এরপরই নতুন করে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত আসে।সেই সময় সংসদে রামাফোসার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। যদিও একটি স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি চুরির ঘটনা পুলিশকে সঠিকভাবে জানাননি এবং টাকা উদ্ধারের জন্য তদন্ত গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন।আদালত বলেছে, নিয়ম অনুযায়ী ওই স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনটি আরো তদন্তের জন্য একটি অভিশংসন কমিটির কাছে পাঠানো উচিত ছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করতে হলে ৪০০ সদস্যের সংসদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন লাগবে। তবে অভিশংসন ভোটের আগে বহুদলীয় কমিটিকে পুরো ঘটনার তদন্ত করতে হবে। সংসদ এখনো এই তদন্ত শেষ হওয়ার কোনো সময়সীমা জানায়নি।

২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার দল আফ্রিকান জাতীয় কংগ্রেস সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। এখন দলটি ১০টি দলের জোট সরকারের সবচেয়ে বড় দল। তবে দলের সংসদ সদস্যরা তার পক্ষে থাকলে রামাফোসা অভিশংসন ভোটেও টিকে যেতে পারেন।

এই কেলেঙ্কারি রামাফোসার ভাবমূর্তিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। তিনি ২০১৮ সালে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার আমলে দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘ সময় ধরে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।

২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক এক প্রধান প্রথম রামাফোসার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। তিনি পুলিশের কাছে গিয়ে দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অনিয়ম করেছেন। পরে জানা যায়, চুরির ঘটনাটি ২০২০ সালে ঘটেছিল এবং বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল।

রামাফোসা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সোফায় রাখা মার্কিন ডলারগুলো তার র‍্যাঞ্চে মহিষ বিক্রির বৈধ অর্থ ছিল। তবে এত টাকা কেন সোফার ভেতরে লুকানো ছিল এবং অর্থের প্রকৃত উৎস কী, এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

২০২২ সালের স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, টাকার উৎস নিয়ে যৌক্তিক সন্দেহ রয়েছে। এ ছাড়া রামাফোসা যে ৫ লাখ ৮০ হাজার ডলারের কথা বলেছেন, প্রকৃত অর্থ তার চেয়েও বেশি হতে পারে বলে কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে তিনি তার প্রেসিডেন্ট নিরাপত্তা ইউনিটের প্রধানসহ অন্যদের গোপনে ব্যবহার করেছিলেন।