জেলেনস্কির সাবেক সহযোগীর বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ
মে ১২, ২০২৬ ১১:৫৯ am
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও সাবেক চিফ অফ স্টাফ আন্দ্রি ইয়েরমাককে একটি বড় দুর্নীতি মামলার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে দেশটির তদন্ত সংস্থা। খোদ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে কিয়েভের রাজনৈতিক মহলে তীব্র অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
দুর্নীতি দমন সংস্থাগুলোর দাবি, ইয়েরমাক একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রায় ১০.৫ মিলিয়ন ডলার পাচার করেছেন।
কিয়েভের কাছে একটি বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পের আড়ালে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ লেনদেন করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। যদিও ইয়েরমাক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও তদন্তকারীরা তাকেই এই চক্রের মূল হোতা বলে মনে করছেন।সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক ইয়েরমাককে ইউক্রেনের দ্বিতীয় শক্তিশালী ব্যক্তি মনে করা হতো। অনির্বাচিত পদে থেকেও রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি সরাসরি প্রভাব খাটাতেন।
গত বছর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনরোষ শুরু হলে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। নতুন করে এই অভিযোগ তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে বড় হুমকির মুখে ফেলেছে।এই তদন্তটি ইউক্রেনের উচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিবিরোধী বড় অভিযানের অংশ। এর আগে রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জেলেনস্কির আরো কয়েকজন সহযোগী অভিযুক্ত হয়েছিলেন।
একের পর এক এমন ঘটনায় প্রেসিডেন্টের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে এমন হাই-প্রোফাইল দুর্নীতি মামলা বিশ্বমঞ্চে ইউক্রেনের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলতে পারে।