কাশি ও হাঁচির মাধ্যমেও ছড়াতে পারে হান্টা ভাইরাস, বলছে নতুন গবেষণা
মে ১০, ২০২৬ ১২:২৩ pm
দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপগামী এমভি হন্ডিয়াস নামক একটি প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাসের একটি বিশেষ ধরন (অ্যান্ডিস স্ট্রেইন) মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন পর্যন্ত পাঁচজন যাত্রী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
সাধারণত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালা থেকে এই ভাইরাস ছড়ালেও, অ্যান্ডিস ভাইরাসের ক্ষেত্রে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির লালা বা শ্লেষ্মায় এই ভাইরাস থাকে। ফলে চুম্বন, পানীয় ভাগ করে খাওয়া বা খুব কাছ থেকে কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের সদস্যদের চেয়ে যৌন সঙ্গীদের মধ্যে এই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় ১০ গুণ বেশি।ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ আমেরিকায় পাখি দেখতে গিয়ে দুই ডাচ পর্যটক ইঁদুরের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছিলেন।
তারাই জাহাজে থাকা অন্য যাত্রীদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে দেন। গত ১লা এপ্রিল আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই জাহাজটিতে প্রায় ১৫০ জন আরোহী ছিলেন। পথিমধ্যে ১১ এপ্রিল একজন যাত্রী মারা যান এবং ২৪শে এপ্রিল বেশ কয়েকজন যাত্রী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নেমে যান। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কর্তৃপক্ষ সেই যাত্রীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
মানুষের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, করোনা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার তুলনায় এই ভাইরাস অনেক কম ছড়ায়। জাহাজের মতো ছোট জায়গায় কাছাকাছি থাকার কারণে সংক্রমণ বেড়েছে, ভাইরাসের শক্তি বাড়ার কারণে নয়। আক্রান্তদের আলাদা করা বা কোয়ারেন্টাইনের মাধ্যমে এই সংক্রমণ সহজেই থামিয়ে দেওয়া সম্ভব। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যার অ্যান্ড্রু পোলার্ড জানিয়েছেন, এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার গতি মহামারি হওয়ার মতো নয়।