মে ৯, ২০২৬ ১২:০৫ pm
দেশে সংঘটিত কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা কিংবা ন্যায়বিচারবিরোধী কর্মকাণ্ডকে সরকার কখনো ‘তামাদি হতে দেবে না’ বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যা থেকে শুরু করে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত সকল ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ‘প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।
শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে শাপলা চত্বরে নিহতদের স্মরণসভায় তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
নারী ও শিক্ষানীতির বিরোধিতা করে ২০১০ সালে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সমাবেশ ডাকে সংগঠনটি। সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা ও তাণ্ডব চলে। ওই রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের শাপলা চত্বর থেকে সরানো হয়।
মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই রাতের অভিযানে ৬১ জন নিহত হন। তবে তৎকালীন পুলিশের দাবি ছিল, রাতের অভিযানে কেউ মারা যাননি, আর দিনভর সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ১১।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২০ অগাস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ জমা পড়ে। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও লেখক শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, ইমরান এইচ সরকারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “জাতীয় সংসদ ইতোমধ্যে শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা জানিয়েছে এবং জুলাই অভ্যুত্থানসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, শাপলা চত্বরের ঘটনার পর বিএনপি ও তার নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘অভিযুক্ত’ করা হয়েছিল। সেই সময় ‘সরকারের সমর্থিত গণমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা’ চালানো হয় এবং বিএনপির বহু নেতাকে মামলায় জড়ানো হয়।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের’ বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এমন কোনো গণতন্ত্রমনা অংশ নেই যারা নির্যাতনের শিকার হয়নি।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, “দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য গড়ে উঠেছিল তার গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের কারণেই।”
একইসাথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদে শাপলা শহীদদের স্মরণ করার মধ্য দিয়ে সরকার জাতির সামনে দায়বদ্ধতার বার্তা দিয়েছে।”
তার মতে, রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি সামাজিক শক্তির ঐক্য ছাড়া কোনো বড়ো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “যখন ধর্মীয় মূল্যবোধ, দেশপ্রেম কিংবা জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন আসে, তখন গোটা জাতি এক হয়ে যায়। এই ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড়ো শক্তি।”
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ মামুনুল হক, জামায়াত ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া।