মে ৯, ২০২৬ ১১:৫৪ am
এবারের নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রসগোল্লা খাইয়েও শুভেন্দুকে তৃণমূলে রাখতে পারেননি অভিষেক।
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর দুই মাসের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের ভেতরে পরিবর্তন শুরু হয়।
তারপর ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে আলোচনায় আসেন শুভেন্দু। গত পাঁচ বছর তিনি মমতাকে আক্রমণ করে রাজ্যে বিরোধী রাজনীতির মুখ হয়ে ওঠেন। এবার ভবানীপুরেও মমতাকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে পৌঁছে গেলেন।
শুভেন্দুর রাজনৈতিক উত্থানের শুরু হয়েছিল নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন থেকে। সেই আন্দোলনে মমতা ছিলেন প্রধান, আর মাঠের সংগঠনের দায়িত্ব সামলাতেন শুভেন্দু। একসময় মমতার ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হলেও সময়ের সঙ্গে তিনিই হয়ে ওঠেন তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।
২০১১ সালের পর থেকেই তৃণমূলের ভেতরে অভিষেক ও শুভেন্দুর দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। যুব সংগঠনের নেতৃত্ব, দলীয় প্রভাব বিস্তার, প্রার্থী বাছাই এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর সেই সংঘাত আরো তীব্র হয়।
পরবর্তী সময়ে আই-প্যাককে নিয়ে তৃণমূলের সংগঠনে বড় পরিবর্তন আনা হয়। জেলাভিত্তিক পর্যবেক্ষকব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়, যেখানে শুভেন্দুর শক্ত প্রভাব ছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে শুভেন্দুর সঙ্গে দলের সম্পর্ক আরো খারাপ হয়ে যায়।
তবে ২০২০ সালের বিধানসভা ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারীকে দলে রাখার চেষ্টা চলছিল। কারণ তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেই সময় ১ ডিসেম্বর শ্যামবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে শুভেন্দু, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রশান্ত কিশোর এবং দুই বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌগত রায় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের সময় অভিষেকের ফোন থেকে শুভেন্দু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা বলেন। তবুও মতবিরোধ মেটেনি। পরে অভিষেক শুভেন্দুকে মিষ্টি খাইয়ে দলে রাখার চেষ্টা করলেও সিদ্ধান্তে বদল হয়নি।
শেষ পর্যন্ত ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে অমিত শাহর হাত ধরে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২০ সালের করোনা পরিস্থিতির সময় থেকেই শুভেন্দু আলাদা রাজনৈতিক পথের ইঙ্গিত দিতে শুরু করেন। জঙ্গলমহলে নিজস্ব উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম চালান এবং ধীরে ধীরে মন্ত্রিত্ব, চেয়ারম্যান পদ ও বিধায়ক পদ ছাড়েন। এরপর বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি সরাসরি মমতার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিগেডের মঞ্চে যে দ্বন্দ্বের শুরু হয়েছিল, ভবানীপুরের নির্বাচনে এসে তার পূর্ণতা মিলল। একসময় মমতার ঘনিষ্ঠ সেনা শুভেন্দুই এখন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী।