মে ৪, ২০২৬ ১:২৪ pm
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জন সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন।
রোববার রাত ৯টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় শপথ অনুষ্ঠানে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ, তৃতীয় তফসিলের ৫ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ বিধি অনুযায়ী শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।
শপথ শেষে নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথপত্রে সই করেন। পরে সংসদ সদস্যদের তালিকাভুক্ত বইতেও সই করেন তারা।
এছাড়া সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যাগ দেওয়া হয়। পরিচয়পত্র তৈরির জন্য ফটো তোলা ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়।
আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে এবার সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী বিএনপি জোট ৩৬ জন, জামায়াত জোট ১৩ জন এবং স্বতন্ত্র জোট একজন প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। তারা ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০তম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতির গেজেট রোববার প্রকাশ হয়নি। এ কারণে ৪৯ জনের সঙ্গে তিনি শপথ নিতে পারেননি।
এদিন বিকালে এ নিয়ে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের বলেন, জ্যোতির মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হলেও আইনি প্রক্রিয়া ও আপিলের সময় সংরক্ষণের কারণে তার গেজেট এদিন প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, সাধারণত বৈধ ঘোষণা হওয়ার পরদিন গেজেট প্রকাশ হয়। কারণ প্রার্থী বা বিপক্ষের আপিল ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় দিতে হয়।
“আজকে (রোববার) সেই সময় রাখা হয়েছে। যে কারণে গেজেট হচ্ছে না এবং স্বাভাবিকভাবেই তিনি আজ শপথ নিতে পারছেন না।”
সবকিছু ঠিক থাকলে সোমবার গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে জানান এই নির্বাচন কমিশনার।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ত্রয়োদশ সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৯ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। তখন ইসি জানিয়েছিল, গেজেটের কপি সংসদ সচিবালয়ে পাঠানোর পর শপথ আয়োজন করা হবে।
একটি আসন নিয়ে জটিলতা থাকায় তখন একটি পদে নির্বাচন ঝুলে ছিল। ওই আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র প্রথমে বাতিল হয়েছিল।
পরে আদালতের আদেশের পর তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হয়। শনিবার রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।