শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

কাতারে আটকা আফগান মিত্রদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ২ বিপজ্জনক বিকল্প

এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১২:০০ pm

কাতারে আটকে পড়া আফগান মিত্রদের জন্য দুটি পথ ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা চাইলে তাদের যুদ্ধবিধ্বস্ত গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে অভিবাসন করতে পারে, অথবা তালেবান শাসিত নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসনের ওপর কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছে এবং এটিকে তাদের প্রধান নীতি বানিয়েছে।

এই নীতির অংশ হিসেবে কাতারের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা এক হাজার ১০০ জনের বেশি আফগানদের শিবির বন্ধ করতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। ২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার এবং পশ্চিমা-সমর্থিত সরকারের পতনের আগে, এসব আফগান যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ওই ঘাঁটিতে প্রক্রিয়াধীন ছিল। তারা আগে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছিল, তাই তালেবানের নিপীড়নের আশঙ্কায় নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছিল।

আফগান মিত্রদের সহায়তাকারী সংস্থা ‘আফগানইভ্যাক’-এর প্রধান এবং সাবেক মার্কিন সেনাসদস্য শন ভ্যানডাইভার বলেছেন, তাকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন আফগানদের সামনে দুটি বিকল্প দেওয়ার কথা ভাবছে।

তারা চাইলে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে যেতে পারে, নতুবা আফগানিস্তানে ফিরে যেতে পারে।তিনি আরো বলেন, তার ধারণা আফগানরা আফ্রিকার ওই দেশে যেতে রাজি হবে না। কারণ দেশটিতে বহু বছর ধরে যুদ্ধ চলছে এবং রুয়ান্ডার সঙ্গে চলমান সংঘাতসহ সেখানে নিজস্ব বড় শরণার্থী সংকটও রয়েছে।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যাচাইকৃত যুদ্ধকালীন মিত্রদের মধ্যে ৪০০ জনের বেশি শিশু রয়েছে।

আমেরিকার হেফাজত থেকে আপনারা এমন একটি দেশে পাঠাতে পারেন না, যে দেশ নিজেই সংকটে ও অস্থিতিশীলতার মুখে।’তিনি অভিযোগ করেন, ‘প্রশাসন এটা জানে, আর এটাই তাদের উদ্দেশ্য।’ তার মতে, এভাবে আফগানদের জোর করে আবার আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর পথ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট ডিআর কঙ্গোকে গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানালেও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কাতারের আস-সাইলিয়াহ শিবির থেকে ‘স্বেচ্ছামূলক পুনর্বাসনের’ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র বলেছেন, কাতারের শিবিরে থাকা মানুষদের কোনো তৃতীয় দেশে স্থানান্তর করা হলে সেটি একটি ইতিবাচক সমাধান হতে পারে।

এতে তারা আফগানিস্তানের বাইরে নিরাপদে নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ পাবে এবং একই সঙ্গে আমেরিকান জনগণের নিরাপত্তাও বজায় থাকবে।অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন এই পরিকল্পনাকে ‘পাগলামি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই আফগানদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তারা আমাদের সাহায্য করলে আমরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাশে থাকব’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার একটি দায়বদ্ধতা রয়েছে। এটাই সঠিক কাজ। আমাদের কথা থেকে সরে গেলে ভবিষ্যতে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে।’

তালেবানরা ক্ষমতায় ফিরে আসার পর ১ লাখ ৯০ হাজারেরও বেশি আফগান যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আবাস খুঁজে পেয়েছে, যাদের অধিকাংশই কোনো ঘটনা ছাড়াই সেখানে বসবাস করছে। এই কর্মসূচিটি সাবেক রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন শুরু করেছিলেন, কিন্তু প্রাথমিকভাবে এটিকে সমর্থন করেছিল অনেক রিপাবলিকান। যারা ২০ বছরের আফগান যুদ্ধের শুরুতে মূলত এটিকে সমর্থন করেছিল।

গত বছর ওয়াশিংটনে একজন আফগান দুইজন ন্যাশনাল গার্ড সেনাকে গুলি করার পর ট্রাম্প বৃহত্তর মার্কিন শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচিটি বাতিল করে দিয়েছেন এবং আফগানদের আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। যাদের মধ্যে একজন নিহত হন। ওই আফগান মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতেন এবং পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন।