শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

রাহুলের ৯২ ও মিলারের শেষের ঝড় ছাপিয়ে গিলদের ১ রানের জয়

এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১১:৪৩ am

পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচের ভাগ্য গড়াল শেষ ওভারে। সেখানেও নাটক কম হলো না। দিল্লি ক্যাপিটালসের দারুণ এক জয়ের সম্ভাবনা জাগালেন ডেভিড মিলার। কিন্তু নায়ক হতে গিয়ে উল্টো তিনিই হয়ে উঠলেন খলনায়ক। রুদ্ধশ্বাস জয় পেল গুজরাট টাইটান্স।

আইপিএলের ১৯তম আসরের ১৪তম ম্যাচে শুবমান গিলের দলের জয় ১ রানে। তাদের ২১০ রানের জবাবে দিল্লি করে ২০৯।

শেষ ওভারে ৪ উইকেট হাতে নিয়ে দিল্লির প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। পেসার প্রাসিধ কৃষ্ণার প্রথম বলে চার মেরে পরের বলে আউট হয়ে যান ভিপরাজ নিগাম।

কুলদিপ ইয়াদাভ তৃতীয় বলে এক রান নিয়ে স্ট্রাইক দেন মিলারকে। পরের বলে ১০৬ মিটার লম্বা ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নাগালে নিয়ে আসেন দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান। ২ বলে দরকার তখন ২ রান।

পঞ্চম বল লেগ সাইডে খেলে সিঙ্গলের সুযোগ থাকলেও নেননি মিলার। শেষ বলে স্লোয়ার শর্ট ডেলিভারি তিনি ব্যাটেই লাগাতে পারেননি। ‘বাই’ রানের জন্য ছোটেন দুই ব্যাটসম্যান। বল ধরে থ্রোয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন কিপার জস বাটলার। ডাইভ দিলেও, কুলদিপ তখন ক্রিজের বেশ বাইরে।

জয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন গিলরা। তবে নাটকীতার তখনও বাকি! আম্পায়ারের সংকেতে অপেক্ষায় থাকতে হয় গুজরাটকে। বলটি ওয়াইড ছিল কি না, পরীক্ষা করে দেখেন টিভি আম্পায়ার। পরীক্ষা করে অবশ্য বল বৈধ ঘোষণা করেন তিনি। দিল্লি শিবির তখন হতাশায় নিমজ্জিত।

সম্ভাবনা জাগিয়েও দলকে জেতাতে পারলেন না ডেভিড মিলার। ছবি: আইপিএল

কাজে এলো না রান তাড়ায় লোকেশ রাহুলের ৫২ বলে ৯২ রানের দারুণ ইনিংস। ব্যাটিংয়ের সময় আঙুলে আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়ে গিয়ে, পরে ফিরে এসে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ২০ বলে ৪১ রানে অপরাজিত রয়ে যান মিলার।

৪১৯ রানের ম্যাচে চমৎকার বোলিংয়ে চার ওভারে স্রেফ ১৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে গুজরাটের নায়ক রাশিদ খান।

দিল্লির আরুন জেটলি স্টেডিয়ামে বুধবার রান তাড়ায় দলকে ভালো শুরু এনে দেন রাহুল ও পাথুম নিসাঙ্কা। ৪৯ বলে ৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন দুজন। ২৪ বলে ৪১ রান করে ফেরেন নিসাঙ্কা। প্রাসিধের ওই ওভারেই টানা চার বলে দুটি করে চার ও ছক্কা মেরে রাহুল ফিফটি পূর্ণ করেন ২৯ বলে।

তবে পরের ওভারে পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে দিল্লিকে চাপে ফেলে দেন রাশিদ। নিতিশ রানার পর সামির রিজভিকে ফেরান আফগান লেগ স্পিনার।

আইপিএলে টানা তিন ম্যাচে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হওয়া রিজভি এবার ফেরেন শূন্য রানে।

এরপরই উইকেটে যান মিলার। কিন্তু একটি সিঙ্গল নেওয়ার সময় ডাইভ দিয়ে বাঁ হাতের আঙুলে আঘাত পান তিনি। ফিজিওর চিকিৎসা নিয়ে খেলা চালিয়ে গেলেও, একটু পর মাঠ ছেড়ে যান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। তখন তার রান ছিল ১০ বলে ১২।

আকসার প্যাটেলের দ্রুত বিদায়ের পর মোহাম্মদ সিরাজের ওভারে রান আউট হন ট্রিস্টান স্টাবস। একই ওভারে চার মেরে পরের বলে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন রাহুল।

শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪৫ রান। ১৮তম ওভার কাগিসো রাবাদা দেন কেবল ৯ রান। পরের ওভারে সিরাজের টানা তিন বলে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন মিলার, একটি চার মারেন নিগামও। এই ওভারে আসে ২৩ রান। কিন্তু শেষ ওভারে জয়ের দুয়ারে গিয়েও পেরে উঠল না দিল্লি।

এর আগে গিল (৪৫ বলে ৭০) বাটলার (২৭ বলে ৫২) ও ওয়াশিংটন সুন্দারের (৩২ বলে ৫৫) পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসে দুইশ ছাড়ানো পুঁজি পায় গুজরাট।

আসরে টানা দুই হারের পর গুজরাটের প্রথম জয় এটি। প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের পর প্রথম হারের তেতো স্বাদ পেল দিল্লি।