এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১১:৩৪ am
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের হামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভণ্ডুল করলে তা ইরানের জন্য ‘বোকামি’ হবে।
দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে লেবাননও যে অন্তর্ভুক্ত তা সুস্পষ্টভাবেই জানিয়েছিল যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতা করা পাকিস্তান। কিন্তু ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেছেন, ইসরায়েল লেবাননে হামলা বন্ধ করবে এ প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হয়নি।
“যদি ইরান চায় লেবানন নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাক, যার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্কই নেই। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই বলেনি যে লেবানন যুদ্ধবিরতির অংশ। যে সংঘাতে ইরান ক্রমাগত মার খেয়েই যাচ্ছে সেখানে তারা যদি আলোচনা ভেস্তে দিতে চায়—এটা শেষ পর্যন্ত তাদের সিদ্ধান্ত।
“আমরা মনে করি, এটা বোকামি হবে। তবে এটা তাদের ব্যাপার,” হাঙ্গেরি ছাড়ার সময় বুধবার ভ্যান্স এ কথাই বলেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিবৃতি শেয়ার দেন। তিনি সেখানে লেবানন অংশটি আলাদাভাবে দেখানও।
“যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার। যুক্তরাষ্ট্রকে এখন বেছে নিতে হবে—যুদ্ধবিরতি অথবা ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার যে কোনো একটি। তারা দুটি পাবে না,” বলেন আরাকচি।
এরপরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং তার হোয়াইট হাউস লেবানন যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ নয়, তা বারবার বলে যাচ্ছে।
পরষ্পরবিরোধী এ অবস্থানকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ আখ্যা দিয়েছেন ভ্যান্স।
“অনেক দুরভিসন্ধিপূর্ণ আলোচনা ও কুপ্রচারণা চলছে। আমার মতে, এটা একটা সত্যিকারের ভুল বোঝাবুঝির ফল। ইরানিরা ধারণা করেছিল যে যুদ্ধবিরতিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু সেটি নয়,” বলেছেন তিনি।
এমন উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ কী করে হয় তা স্পষ্ট নয়। পাকিস্তানের বিবৃতিতে লেবাননকেও যে যুদ্ধবিরতির মধ্যে রাখা হয়েছে, তা কী করে এল মার্কিন কর্মকর্তারা সেই ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন না।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ইসরায়েলের। তারা লেবাননের সঙ্গে ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতিও ক্রমাগত লঙ্ঘন করেছিল এবং এরপর টানা ১৫ মাস ধরে তারা প্রতিনিয়তই প্রতিবেশী দেশটিতে হামলা চালিয়ে গেছে, বলছে আল জাজিরা।
বুধবার ইসরায়েল দেশটিতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণঘাতি হামলা চালায়। তাদের কয়েক ডজন বিমান হামলা লেবাননের অন্তত ২৫৪ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, আহত হয়েছে এক হাজার ১০০ জনের বেশি।
এরপরও ভ্যান্স বলছেন, লেবাননে সংযম দেখাতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল।
“ইসরায়েলিরা লেবাননে নিজেদের কিছুটা সংযত রাখার অঙ্গীকার করেছে, কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা যেন সফল হয় তা নিশ্চিত করতে চায়,” বলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে মার্চের শুরুতেই লেবাননেও হামলে পড়ে ইসরায়েল।
ইরান যুদ্ধে লেবাননকে জড়ানোয় হিজবুল্লাহকে দেশের ভেতরও ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছে।
এদিকে ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা হিজবুল্লাহকে ‘ছেড়ে যাবেন না’।
বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুমকি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েল লেবাননে যুদ্ধবিরতি মেনে না চললে যুদ্ধ ফের শুরু হবে।
“প্রিয় লেবাননের ওপর আগ্রাসন যদি শিগগির বন্ধ না হয়, তাহলে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো এবং অঞ্চলের বদমাশ আগ্রাসনকারীদের সমুচিত জবাব দেবো,” বলেছে তারা।